শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

আজ ২১শে আগস্ট

ডেস্ক নিউজঃ আজ ২১শে আগস্ট, ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।  ১৮ বছরের আগের এ দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্যতম দিন। দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নেতৃত্বশূন্য করার জঘন্য অপচেষ্টার দিন। দেশের মানুষ আজও কেঁপে ওঠেন শনিবার দিনটির কথা ভেবে। কত শত মানুষ মনের অজান্তে কেঁদে ফেলেন। স্বজন হারানোরা খুঁজে ফেরেন প্রিয় মানুষের স্মৃতি। অনেকের মনে প্রশ্ন- কেন এসেছিল ২১ আগস্ট ২০০৪?

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এদিন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। যে ট্রাকটিকে (ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৩০৯৮) উন্মুক্ত মঞ্চ করা হয়েছিল, সেটিকে ঘিরে শনিবার বিকেল ৪টা থেকেই দলীয় ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভিড় করছিলেন। পুরো এলাকা জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত ছিল। বিকেল ৫টায় সমাবেশ স্থলে আসেন শেখ হাসিনা। বিকেল ৫টা ২ মিনিটে মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করেন। টানা ২০ মিনিট বক্তব্য দিলেন। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে নিজেই জয় বাংলা..জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে মাইক নামাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই শুরু জঘন্যতম সময়ের মুহূর্ত।

মঞ্চের দক্ষিণ পাশ থেকে ছোড়া একটি গ্রেনেড একেবারে কাছে এসে পড়ে। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় গ্রেনেডটি। মঞ্চ টার্গেট করে দক্ষিণ পাশ থেকে একে পর এক গ্রেনেড হামলা হতে থাকে। মাত্র দেড় মিনিটে ব্যবধানে ১৩টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ হয় সমাবেশ স্থলে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু কন্যাকে রক্ষায় তৈরি করে ফেলেন মানব দেয়াল। মঞ্চে এ অবস্থায় থাকেন কিছুক্ষণ। পরিস্থিতি বুঝে বঙ্গমাতার মেয়েকে ট্রাক থেকে নামিয়ে তার বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। ওই গাড়ি লক্ষ্য করেও গুলি ছোঁড়ে হামলাকারীরা।

২১ আগস্টের ওই ঘটনায় নিজ নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাস্তায় বসেছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমান। গ্রেনেডে আঘাতে তাৎক্ষণিক গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় তার। তিনিসহ মোট ২৪ জন হামলার ঘটনায় নিহত হন। আহত হন দল ও সংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী-সমর্থক।

ওই কালোদিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। রাস্তায় পড়ে ছিল অগণিত রক্তসহ জুতা, স্যান্ডেল। অবিস্ফোরিত গ্রেনেডও পড়ে ছিল কয়েকটি। এ হামলায় মানব দেয়ালের কারণে শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার দুই কান ও চোখ। অপূরণীয় ক্ষতি হয় তার শ্রবণশক্তির।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD